-আচ্ছা, আকাশে ইয়া বড় চাঁদটা মাঝে মাঝে কোথায় লুকিয়ে যায় বলতে পারো?
জহিরের অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে আবরার কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ ভেবে তারপর আবরার বলল-
-আমার মনে হয় সাদা মেঘগুলোর আড়াল থেকে চাঁদ স্নান করে তারপর বের হয়।
-তা হলে এই ছোট্ট পোকাগুলো আলো দেয় কোত্থেকে?
-হয়তো চাঁদের আলো থেকে ধার করে নিয়ে আসে।
-সত্যি তো!
মাকে গিয়ে আজ অনেক কিছু জিজ্ঞেস করতে হবে। জানো আবরার, মা কিন্তু পৃথিবীর সবকিছু জানে। আমি মাকে যা-ই জিজ্ঞেস করি, মা সঙ্গে সঙ্গে বলে দেয়। কিছুটা অহংকারী হৃদয় নিয়ে কথাগুলো বলে জহির।
জোনাকপোকার আলো নিয়ে আবরারের কিছুটা সন্দেহে পড়ে যায়। সে কি সত্যি বলল, নাকি মিথ্যে কিছু সে জহিরকে শিখিয়ে দিল। কিন্তু মা তো তাকে বলেছিল, যখন কেউ কোনো কিছু জিজ্ঞেস করবে-যদি সে তা জানে, তা হলে সত্যিটা বলতে। আর না জানলে চুপ থাকতে। কিন্তু সে জহিরকে যে তথ্যটি দিয়েছে। এটি কি সত্য? জোনাকিরা কি সত্যিই চাঁদের কাছ থেকে আলো ধার করে নিয়ে আসে। নাকি এটা তাদের নিজস্ব কোনো আলো। সেও পণ করে, যেভাবেই হোক সত্যিটা জেনে জহিরকে জানাতেই হবে। তা না হলে ভুল কিছু জেনে সে কীভাবে বড় হয়ে উঠবে। তাদের মুখের প্রতিটি বুলি জোছনা রাতের সুরভিত পুষ্প হয়ে মধুর প্রীতি ও ভালোবাসা ছড়াতে থাকে।
এমন সময় আকাশ গর্জন দিয়ে ওঠে। আশপাশটা প্রবল বাতাসে ছেয়ে যায়। হয়তো বৃষ্টি নামবে। কিন্তু জহির হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখল চাঁদটাকে আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না। তার চোখ যতদূর যায়, ততদূর পর্যন্ত সে খুঁজল। নাহ, চাঁদটা কোত্থাও নেই। এখন সে আবরারকে প্রশ্ন করে বসে-
-আচ্ছা, বল তো চাঁদটা কোথায় হারিয়ে গেল।
আবরার এবারও চিন্তায় পড়ে গেল যে, কী উত্তর দিয়ে সে জহিরকে আশ্বস্ত করবে! নাকি জহির সবকিছু না জেনেই বাসায় ফিরে যাবে।
কিন্তু জহির হঠাৎ বলে ওঠে-
-ও ও, মনে পড়েছে। স্যার না বলেছিল। মাঝে মাঝে চাঁদটা মামার বাড়ি বেড়াতে চলে যায়। এখন মনে হয় চাঁদ মামার বাড়িতেই বেড়াতে গেছে।
আবরার কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়। আবরারের মনেও নানারকম প্রশ্ন জাগতে থাকে। কী আর করার। দুজন মিলেই সব প্রশ্নের সমাধান বের করতে হয়।
-বৃষ্টি আসবে বলে, চলো বাসায় ফিরে যাই।
আবরারের এমন প্রশ্ন শুনে জহির কিছুটা অবাক হলো। সে আবরারকে জিজ্ঞেস করল।
-বৃষ্টি যে আসবে এটা তুমি কীভাবে বুঝলে?
-এই যে দেখো, চাঁদটাও চলে গেছে। প্রকৃতিতে কেমন ঝড়ো বাতাস শুরু হয়েছে। একদিন রাতের বেলায় এমন হয়েছিল। তখন মা আমাকে এ সবকিছু বলেছে যে, কখন প্রকৃতি কেমন হলে বুঝতে হবে যে কখন বৃষ্টি আসবে।
তারা দুজন বাসায় ফিরতে ফিরতে আরও জটিল কিছু প্রশ্নের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।
বাসায় যাওয়ার আগেই তারা ভিজে একেবারে জবুথবু হয়ে যায়। তারা দুজন মায়ের কাছ থেকেও অনেক কিছু জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তাদের মায়েরা তাদের সব জটিল ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সমাধান করে দেয়। খোলাসা করে দেয় আকাশের বিশালতার, চাঁদের স্নিগ্ধতার ও জোছনা রাতের জোনাকপোকার আলো বিতরণের মাধ্যমগুলো। তারা দুজন মিলে স্বপ্ন দেখে, ভবিষ্যতের স্বপ্ন। একদিন তারাও আকাশের মতো উদার হবে। এভাবেই তারা বড় হবে। একদিন সবকিছু জানতে পারবে। এই প্রত্যাশা নিয়েই পরদিন তারা পাঠশালার দিকে রওনা হয়।
সময়ের আলো / প্রজাপতির পাখায় প্রকাশিত
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
প্রকাশিত লেখার পাতা :


